উপকরণ বিক্রেতাদের উন্নয়ন

সর্বাধিক উৎপাদনের জন্য, দরিদ্র উৎপাদকদের উচ্চ গুনাগুণ স¤পন্ন ”উপকরণ” যেমন: গবাদি প্রাণির খাবার ও টিকা ক্রয় করার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্বে, চরের অধিবাসীদের এই উপকরণ কিনতে অনেক দূর এমনকি কয়েক ঘন্টার পথও অতিক্রম করতে হত। এই বিশাল দূরত্ব অতিক্রমের খরচ তাদের উপকরণের ক্রয় মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে আরও বাড়িয়ে দিত। সিএলপি চরে প্রায় পায়ে হাটা দূরত্বের মধ্যেই উপকরণ বিক্রেতাদের ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। যেহেতু এই ব্যবসার লাভ আসে গরীব উৎপাদনকারীদের নিকট উপকরণ বিক্রয়ের মধ্য দিয়ে; সেহেতু এই ব্যবসা এখন এবং ভবিষ্যতেও চালিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে উপকরণ বিক্রেতারা নিজে থেকে উদ্যগী হয়ে কাজ করে যা গরীব উৎপাদকদের উৎপাদন ও লাভ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

আর্থিক সেবা প্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি

উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উচ্চ গুণগতমানের উপকরণ ক্রয়ের জন্য গরীব উৎপাদকদের ঋণ সেবা প্রাপ্তির উপযুক্ত উৎস থাকা প্রয়োজন। যদিও বাংলাদেশে একটি অত্যন্ত উন্নতমানের ক্ষুদ্রঋণ সেবা খাত রয়েছে, তবুও এই প্রকল্পের পূর্বে খুব স্বল্প সংখ্যক ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানই চর এলাকায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত।

সিএলপি ক্ষুদ্রঋণ সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন সংস্থার সাথে যুক্ত হয়েছে যাতে চরের উৎপাদকদের ঋণ সুবিধা দেয়ার ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক দিকগুলো তাদের সামনে তুলে ধরা যায়, তাদেরকে চরের উৎপাদকদের আর্থিক প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো যায় এবং কিভাবে আর্থিকভাবে উপযোগী পণ্য তৈরি করতে হয় তার নির্দেশনা প্রদান করা যায়।

বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সমন্বয়ের উন্নয়ন

সিএলপির বাজার ব্যবস্থা উন্নয়ন কৌশলের একটি মূল উপাদান হলো- ব্যবসায়ী দল এবং চর ব্যবসা কেন্দ্র (সিবিসি), এই দুটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহায়তা করা । এই ব্যবসায়ী দল মূলত গ্রাম পর্যায়ে নির্দিষ্ট পণ্য উৎপাদনকারী ব্যক্তিদের নিয়ে গঠন করা হয় । এটি গরীব উৎপাদকদের কাছে একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে যার মাধ্যমে তারা একত্রে ব্যবসায়ী এবং উপকরণ সরবরাহকারীদের সাথে ব্যবসায়ীক আদান প্রদানের মাধ্যমে অন্যান্য ব্যবসারও উন্নতি করতে পারে।

দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান চর ব্যবসা কেন্দ্র এর মূল বৈশিষ্ট হল, তারা শুধুমাত্র উৎপাদনকারীদেরকেই অন্তর্ভুক্ত করে না, সেই সাথে উপকরণ সরবরাহকারী এবং ক্রেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করে। চর ব্যবসা কেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারীগণ নিয়মিত মিটিং এর মধ্য দিয়ে সম্মিলিতভাবে ব্যবসার উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করে। এর ফলে উৎপাদনের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা,  উপকরণ সরবরাহকারীদেরকে তাদের উপকরণের চাহিদা এবং সময় সম্পর্কে অবহিত করতে পারে, যার ফলে উপকরণ সরবরাহকারীগণ আগে থেকেই সেই পরিমাণ উপকরণ মজুত রাখতে পারে ও সময়মত সরবরাহ করতে পারে। অথবা তারা লেনদেন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা নিতে পারে যেমন- দুধের নির্দিষ্ট সংগ্রহস্থল নির্ধারণ। সর্বোপরি, সিবিসির মূল লক্ষ্য একটাই- সংশ্লিষ্ট সকলেই যেন লাভবান হতে পারে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা।

4,789 total views, 9 views today